Olympiads vs Pseudo-olympiads

আমাদের দেশে অলিম্পিয়াডের জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছেই। অবস্থা এখন এমন দাঁড়িয়েছে, কেউ কোন প্রতিযোগিতা আয়োজন করলেই সেটার নাম দিয়ে ফেলে “অমুক অলিম্পিয়াড”। কিন্তু আসলেই কি সেটা অলিম্পিয়াড হয়ে যায়? উত্তর হচ্ছে, না। তাহলে এদের সাথে মূলধারার অলিম্পিয়াডের পার্থক্য কোথায়? সেটা নিয়েই এই লেখায় আলোচনা করব।

 

প্রশ্ন হচ্ছে অলিম্পিয়াড আসলে কোনগুলো? কোন প্রতিযোগিতা অলিম্পিয়াড হবে তখনই যখন নিচের দুটি শর্ত মানবে-

১। এই প্রতিযোগিতার একটা আন্তর্জাতিক কমিটি থাকবে।

২। বাংলাদেশের জাতীয় আয়োজক কমিটির ঐ আন্তর্জাতিক কমিটির অধীনে সদস্যপদ থাকবে।

এখন এই শর্ত দুটো মেনে আমাদের দেশে কয়েকটি প্রতিযোগিতা সত্যি সত্যিই অলিম্পিয়াড। আবার কয়েকটি প্রতিযোগিতা নামেই অলিম্পিয়াড, কোন কোনটা আসলে কুইজ প্রতিযোগিতার চেয়ে বেশি নয়। এগুলোকে আমরা এই লেখায় ছদ্ম অলিম্পিয়াড বলব। আমরা তোমাদের ছদ্ম অলিম্পিয়াডে অংশ নিতে পুরোপুরি নিষেধ করব না, কিন্তু এগুলো থেকে তুমি বড় কিছু আশা করতে যেও না। তাই এগুলোর জন্য বেশি পরিশ্রম করতে নিরুৎসাহিত করব। অন্যভাবে বলতে গেলে, ছদ্ম অলিম্পিয়াডের তুলনায় আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত অলিম্পিয়াডের জাতীয় পর্যায়ে পুরস্কার পেতে হলে অনেক পরিশ্রম করতে হয়, কিন্তু সেই পরিশ্রমের সম্মানটাও অনেক বেশি।  

এখন আমরা বাংলাদেশে প্রচলিত কয়েকটি সত্যিকার অলিম্পিয়াডের বিষয়ে কিছু সাধারণ ধারণা দেব। 

Olympiads:

ডাচ-বাংলা ব্যাংক প্রথম আলো গণিত উৎসব: (BdMO)

ডাকনাম গণিত অলিম্পিয়াড। আমাদের দেশের সবচেয়ে বড় ও সবচেয়ে পুরনো অলিম্পিয়াড। এই অলিম্পিয়াড ২০০১ সালে শুরু হয়ে রীতিমতো একটা বিপ্লব ঘটিয়ে দিয়েছে। এর বিস্তার তৃতীয় থেকে শুরু করে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত। স্বাভাবিকভাবেই এখানে প্রতিযোগিতাও হয় সবচেয়ে বেশি। আর International Mathematical Olympiad হল বিশ্বের স্কুল শিক্ষার্থীদের সবচেয়ে বড় ও সবচেয়ে সম্মানজনক মেধাভিত্তিক প্রতিযোগিতা, যেখানে আমাদের দেশের একটা স্বর্ণ আর অনেকগুলো রৌপ্য আর ব্রোঞ্জ এসেছে। সত্যি কথা বলতে গেলে, বাংলাদেশ থেকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ৬ সদস্যের দলে সুযোগ পেতে হলে প্রস্তুতি শুরু করা উচিৎ প্রাইমারি থেকে বা জুনিয়র ক্যাটাগরির শুরু থেকে। তবে তুমি যে অলিম্পিয়াডেই যাও না কেন, গণিত লাগবেই। তাই ছোট হও বা বড়, গণিত অলিম্পিয়াডের আঞ্চলিক পর্যায়ের জন্য অন্তত কিছু প্রস্তুতি নেওয়া উচিৎ। তাহলে সব অলিম্পিয়াডেই তোমার problem solving skill তোমাকে কিছু না কিছু হেল্প করবে। আমাদের দেশ থেকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক অলিম্পিয়াডে পদকজয়ীদের দিকে তাকালে দেখবে, তারা প্রায় সবাই একসময় গণিত অলিম্পিয়াডে পুরস্কার পেয়েছে। এই অলিম্পিয়াডের ওয়েবসাইটের লিঙ্কঃ http://www.matholympiad.org.bd/ আন্তর্জাতিক পর্যায়ের লিঙ্কঃ http://www.imo-official.org/

ডাচ-বাংলা ব্যাংক প্রথম আলো ফিজিক্স অলিম্পিয়াডঃ (BdPhO)

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম অলিম্পিয়াড, ২০১১ সাল থেকে শুরু হয়েছে। এখান থেকে ৮ সদস্যের Asian Physics Olympiad(APhO), ৫ সদস্যের International Physics Olympiad(IPhO) এবং ৫ সদস্যের Europian Physics Olympiad(EuPhO) এর জন্য বাংলাদেশ দল পাঠান হয়। IPhO তে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ একটা রৌপ্য, অনেকগুলো ব্রোঞ্জ আর সম্মানসূচক স্বীকৃতি পেয়েছে। এটার বিস্তার ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত, তিনটি ক্যাটাগরি রয়েছে। এই অলিম্পিয়াডও বেশ প্রতিযোগিতাপূর্ণ। এটাতে আন্তর্জাতিক কোন একটি দলে সুযোগ পেতে হলে ক্যাটাগরি বি এর শুরু থেকে প্রস্তুতি নেওয়া উচিৎ। আমাদের smartians এর এই ওয়েবসাইটে এই অলিম্পিয়াডের প্রস্তুতি নিয়ে বিস্তারিত লেখা আছে। তোমরা সেই পোস্টগুলো পড়ে নিয়ো। এই অলিম্পিয়াডের ওয়েবসাইটের লিঙ্কঃ https://www.bdpho.org/ আন্তর্জাতিক পর্যায়ের লিঙ্কঃ https://www.ipho-new.org/

বাংলাদেশ অলিম্পিয়াড ইন ইনফরমেটিক্স: (BdOI)

এটাও দেশের একটি পুরনো অলিম্পিয়াড, ২০০৭ সাল থেকে এর যাত্রা শুরু। এখান থেকে International Olympiad in Informatics এর জন্য ৪ সদস্যের দল বাছাই করা হয়। এখানে বাংলাদেশের রৌপ্য আর ব্রোঞ্জ পদক এসেছে। এটা আসলে C এবং C++ ভাষা দিয়ে কম্পিউটার প্রোগ্রামিং এর প্রতিযোগিতা। এটাও ক্লাস ৬ থেকে ১২ পর্যন্ত। National High School Programming Contest, Inter School College Programming Contest এই প্রতিযোগিতাগুলোও এই অলিম্পিয়াডেরই শাখা বলতে পারো। তোমাদের কার যদি ভবিষ্যতে Computer Science এ পড়ার ইচ্ছা থাকে, তাহলে এই প্রতিযোগিতাগুলোতে অংশ নেওয়া অবশ্য কর্তব্য। আরেকটা মজার বিষয়, বড় সফটওয়্যার কোম্পানিতে ইন্টার্নশিপ বা চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে এই অলিম্পিয়াডের কিন্তু যথেষ্ট গুরুত্ব আছে। এদের ফেসবুক পেজ লিঙ্কঃ  https://web.facebook.com/groups/bdoifamily/?_rdc=1&_rdr  আন্তর্জাতিক পর্যায়ের লিঙ্কঃ https://ioinformatics.org/

বাংলাদেশ জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াডঃ (BdBO)

এটা আমাদের দেশে তুলনামূলক নতুন অলিম্পিয়াড। International Biology Olympiad এর জন্য ৪ সদস্যের বাংলাদেশ দল বাছাই করা হয় এখান থেকে।এখন পর্যন্ত এখানে বাংলাদেশের ব্রোঞ্জ ও সম্মানসূচক স্বীকৃতি এসেছে। এটারও ব্যাপ্তি ক্লাস ৬-১২ পর্যন্ত। তবে মুখস্থ নয়, বুঝে বুঝে জীববিজ্ঞান পড়লেই এখানে ভালো করা সম্ভব। এটিতে তিনটি ক্যাটাগরি রয়েছে। এদের ওয়েবসাইটের লিঙ্কঃ https://bdbo.org/ আন্তর্জাতিক পর্যায়ের লিঙ্কঃ https://www.ibo-info.org/en/

বাংলাদেশ জুনিয়র সায়েন্স অলিম্পিয়াডঃ (BdJSO)

এই অলিম্পিয়াডের পথচলা মাত্র ২০১৫ সাল থেকে। এই অলিম্পিয়াড থেকে International Junior Science Olympiad(I J SO) এর জন্য ৬ সদস্যের বাংলাদেশ দল বাছাই করা হয়। এর জন্য physics, chemistry, biology- তিনটিতেই ভালো হতে হয়। আর সব অলিম্পিয়াড এর সাথে এর পার্থক্য হল যে এটি কেবল অনূর্ধ্ব ১৬ বছর বয়েসীদের জন্য যেখানে অন্য সবগুলো অনূর্ধ্ব ২০ বছর বয়েসীদের জন্য। তবে এই অলিম্পিয়াড খুব অল্প সময়ের মধ্যেই বাংলাদেশে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে আর I J SO তে আমাদের অর্জনের পরিমাণও ঈর্ষনীয়, ৫ বছরে ২৩ টা মেডেল। কারন যদি জানতে চাও বাংলাদেশে কোন অলিম্পিয়াড আন্তর্জাতিক দলকে সবচেয়ে বেশি সময় ট্রেনিং দেয়, তাহলে উত্তর সম্ভবত আইজেএসও । এই অলিম্পিয়াড প্রাইমারি থেকে বয়সসীমা মানা শর্তে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত। একটা বিষয়, এই অলিম্পিয়াড BdPhO কিংবা  BdBO এর জন্য খুব ভালো প্ল্যাটফর্ম হিসাবে কাজ করে। তুমি যদি ৮, ৯ বা ১০ এ পড়, এই অলিম্পিয়াড তোমার জন্য আদর্শ। আমাদের ওয়েবসাইটে এর প্রস্তুতির ওপর বিস্তারিত লেখা আছে। ওয়েবসাইটের লিঙ্কঃ http://bdjso.org/  আন্তর্জাতিক পর্যায়ের লিঙ্কঃ http://www.ijsoweb.org/

বাংলাদেশ এস্ট্রোনোমিকাল অ্যাসোসিয়েশন- বাংলাদেশ এস্ট্রো-অলিম্পিয়াডঃ (BAO)

এই অলিম্পিয়াড আসলে প্রথম শুরু হয় ২০০৬ সালে, সে হিসাবে দেশের অন্যতম পুরনো অলিম্পিয়াড। ২০১৬ সাল পর্যন্ত International Astronomy Olympiad (IAO), Asia Pacific Astronomy Olympiad(APAO) এবং International Olympiad on Astronomy and Astrophysics এ এই কমিটির অধীনে দল পাঠান অব্যাহত থাকে। কিন্তু ২০১৮ সালে এই কমিটি IOAA এর সদস্যপদ হারায়। এখন BdAO কমিটি কেবল IAO এবং APAO এ দল নির্বাচন করে পাঠায়। IAO যথেষ্ট সম্মানজনক একটি প্রতিযোগিতা, এখানেও বাংলাদেশের বেশ কিছু অর্জন রয়েছে। ওয়েবসাইটের লিঙ্কঃ  https://www.astronomybangla.com/ আন্তর্জাতিক পর্যায়ের লিঙ্কঃ http://www.issp.ac.ru/iao/

বাংলাদেশ অলিম্পিয়াড অন অ্যাস্ট্রোনমি অ্যান্ড অ্যাস্ট্রোফিজিক্সঃ (BdOAA) 

এই অলিম্পিয়াড আয়োজিত হয় IOAA দল বাছাইয়ের উদ্দেশ্যে। ২০১৮ সালে IOAA এর প্রাক্তন অংশগ্রহণকারীরা আলাদাভাবে কমিটি গঠন করে এর দায়িত্ব গ্রহণ করে। এই অলিম্পিয়াডটি স্বতন্ত্র অলিম্পিয়াড হিসাবে বেশ নতুন, কিন্তু মাত্র দুই বছরেই যথেষ্ট জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে।২০২০ সালে এই কমিটি Junior International Olympiad on Astronomy and Astrophysics(IOAA Jr) এ দল পাঠানোর দায়িত্বও নিয়েছে। দেশের কয়েকটি অঞ্চলে এটি দুটি ক্যাটাগরিতে আয়োজিত হয়। ওয়েবসাইটের লিঙ্কঃ https://bdoaa.org/ আন্তর্জাতিক পর্যায়ের লিঙ্কঃ http://www.ioaastrophysics.org/

Bangladesh Youth Environmental Initiative- ন্যাশনাল আর্থ সায়েন্স অলিম্পিয়াডঃ (NEO)

এই অলিম্পিয়াড ভূবিদ্যার ওপর নিয়মিতভাবে ২০১৬ সাল থেকে আয়োজিত হয়ে আসছে। তবে প্রথমবার আয়োজিত হয় ২০১২ সালে এবং International Earth Science Olympiad  এ বাংলাদেশ দল প্রথম যায় ২০১৩ সালে। দেশের কয়েকটি অঞ্চলে এর আঞ্চলিক পর্ব শেষে জাতীয় পর্ব আয়োজিত হয়। প্রথমবার থেকেই আন্তর্জাতিক পর্যায়েও সাফল্যের হার বেশ ভালো, ব্যক্তিগত প্রতিযোগিতায় অনেকগুলো ব্রোঞ্জ ও কিছু রৌপ্য এবং দলীয় পর্যায়ে স্বর্ণ এসেছে। ওয়েবসাইটের লিঙ্কঃ  https://www.byei.org/neo/ আন্তর্জাতিক পর্যায়ের লিঙ্কঃ http://www.ieso-info.org/

এখনো পর্যন্ত আমরা যে অলিম্পিয়াডগুলো নিয়ে আলোচনা করলাম সেগুলো আন্তর্জাতিকভাবে বিখ্যাত কয়েকটি সায়েন্স অলিম্পিয়াড। এরপরে নিচেরগুলি অতটা বিখ্যাত নয়, তবে তোমরা চাইলে অংশ নিতে পারো।

বাংলাদেশ রোবট অলিম্পিয়াডঃ (BdRO) 

এটি মাত্র দুইবছর ধরে আয়োজিত হয়ে আসছে। কিন্তু International Robot Olympiad এ পাঠান বাংলাদেশ দল দুবারই স্বর্ণ জিতেছে। এই অলিম্পিয়াডটি ঢাকার বাইরে এখনও সেভাবে ছড়াতে পারেনি। জাতীয় পর্বের আগে কয়েক অঞ্চলে কিছু ওয়ার্কশপ হয়। এদের ফেসবুক পেজঃ https://web.facebook.com/BdRobotOlympiad/ আন্তর্জাতিক পর্যায়ের লিঙ্কঃ https://www.iroc.org/

বাংলাদেশ ইকোনমিক্স অলিম্পিয়াডঃ (BdEO)

এই অলিম্পিয়াডটি একেবারেই নতুন, ২০১৯ সালে শুরু হয়েছে। International Economics Olympiad এ দল পাঠানোর উদ্দেশ্যে এটি আয়োজিত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ের লিঙ্কঃ https://ecolymp.org/

ফিলসফিকাল সোসাইটি অফ বাংলাদেশ- বাংলাদেশ ফিলসফি অলিম্পিয়াড (BPO)

এই অলিম্পিয়াডটিও একেবারেই নতুন। তবে International Philosophical Olympiad(IPO) কিন্তু বিশ্বের সায়েন্স অলিম্পিয়াডগুলোর মধ্যে একটি (বিশ্বাস না হলে উইকিপিডিয়া দেখ)। এখানে নির্দিষ্ট বিষয়ের ওপর রচনা লিখে পাঠাতে হয়। বাংলাদেশ মাত্র 2019 সালে প্রথমবারের মতো IPO তে অংশ নেয়। ওয়েবসাইটের ঠিকানাঃ https://ipo-bangladesh.org/ আন্তর্জাতিক পর্যায়ের লিঙ্কঃ http://www.philosophy-olympiad.org/

এর বাইরে বাংলাদেশ লিঙ্গুইস্টিক্স অলিম্পিয়াড(BLO) আয়োজিত হয় ভাষাতত্ত্বের ওপর। তবে এটি অনিয়মিতভাবে কয়েকবার International Linguistics Olympiad (ILO) এ দল পাঠিয়েছে।

আমাদের অভিজ্ঞতা থেকেঃ

এখানে অনেকগুলো কথা আছে। তুমি খুব স্বাভাবিকভাবেই দেখতে পাবে, তোমার আগ্রহ কেবল একটা নির্দিষ্ট বিষয়ে নয়, একাধিক বিষয়ে থাকতে পারে। তখন তুমি কি করবে? 

এটা মনে রাখা অনেক গুরুত্বপূর্ণ- তুমি একই সঙ্গে দুটো বড় বড় অলিম্পিয়াডে কখনই “খুব ভালো কিছু” করতে পারবে না। “খুব ভালো” বলতে আমি জাতীয়তে প্রথমদিকে পুরস্কার পাওয়া বা  ক্যাম্পে ভালো করা বুঝাচ্ছি।(দুএকজন ব্যতিক্রম অবশ্যই আছে, কিন্তু তারা ব্যতিক্রমই) তবে তুমি একটা অলিম্পিয়াডকে খুব গুরুত্ব দিয়ে এবং সঙ্গে সঙ্গে less priority দিয়ে আরও একটা বা দুটো অলিম্পিয়াড করতে পারো, অবশ্যই পরেরগুলোতে কম পরিশ্রম করে।যেমন নিচের অপশনগুলো বেশ ভালো-

  1. BdPhO first priority এবং BdMO less priority
  2. BdPhO first priority এবং BdOAA less priority বা এর উল্টোটা
  3. BdMO first priority এবং BdOI less priority বা এর উল্টোটা
  4. BdJSO এবং BdPhO equal priority (SSC/O level এর পর কেবল BdPhO)
  5. BdJSO এবং BdBO equal priority (SSC/O level এর পর কেবল BdBO)
  6. BdJSO এবং NEO equal priority (SSC/O level এর পর কেবল NEO)
  7. BdOAA এবং BdAO equal priority

এখানে উল্লেখ্য যে, তুমি চাইলে একাধিক অলিম্পিয়াডের সাথে BdMO regional লেভেলের টার্গেট রাখতে পারো, এটা অনেকেই করে। কারন আগেই বলেছি, গণিত সবকিছুর মূল। আরেকটা বিষয়, তোমরা যারা খুব ছোট, তারা হয়ত ভাবছ “আন্তর্জাতিক দলে তো বড়রাই যায়, আমি ছোট মানুষ- তাহলে বড় হয়েই সিরিয়াস পড়াশোনা করব।” এটা কিন্তু অনেকাংশে ভুল ধারণা। সব অলিম্পিয়াডেরই দল নির্বাচন পরীক্ষাগুলোতে একজন সিনিয়র ও জুনিয়র কাছাকাছি নম্বর পেলে জুনিয়র শিক্ষার্থীটিকেই কিন্তু প্রাধান্য দেওয়া হয়। BdJSO এর ক্ষেত্রে এই বিষয়টা আরও সত্য, কারন এটা Junior দেরই অলিম্পিয়াড। এজন্য তুমি যদি BdJSO এর বিষয়ে আগ্রহী হও, আমি উপদেশ দেব ক্লাস নাইন বা টেনে থাকতেই I J  SO দলে সুযোগ পাওয়ার চেষ্টা করো। SSC এর পর তোমার বয়স থাকলেও নতুন করে দলে ঢোকাটা কঠিন হবে।

এরপরও যদি মনে হয়,”আমি তো সবকিছুই পারি, সবকিছুই করব”, তাহলে শুনে রাখ- প্রথমে তোমার নিজেকে all-rounder মনে হলেও হতে পারে। কিন্তু একটা সময়এ এসে এটা মনে হবে, ”Jack of all trades, Master of none.” এই কষ্ট মেনে নেওয়া কিন্তু খুব কঠিন। 

Pseudo-olympiad:

 আমরা উপরে বর্ণিত অলিম্পিয়াড গুলোর বাইরে যেকোনোটাকেই (সে যত জায়গাতেই প্রচার করে নিজেকে অলিম্পিয়াড বলে দাবি করুক না কেন) Pseudo-olympiad বলতে পারি। Pseudo-olympiad এ যাবে কিনা সেটা তোমার নিজের অভিরুচির ওপর নির্ভর করে। তুমি কেন অলিম্পিয়াডে যাও? নতুন কিছু শেখার আশায়, প্রব্লেম সল্ভ করার আনন্দের জন্য, তোমার সমমনা আরও চার- পাঁচজনের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার জন্য  নাকি কেবল একটা সার্টিফিকেটের জন্য? 

তোমাদের হাতে অনেক সময় থাকলে এবং নিজেকে যাচাই করার ইচ্ছা থাকলে pseudo-olympiad এ যেতে পারো। আসল অলিম্পিয়াডগুলোর একটা বড় আকর্ষণ বিভিন্ন পর্যায়ের প্রশিক্ষণ ক্যাম্প, যেগুলো অনেকের জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। Pseudo-olympiad এ তুমি এই সুযোগ পাবে না। তাছাড়া, আসল অলিম্পিয়াডের একরকম দায়বদ্ধতা থাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দল পাঠানোর জন্য, এজন্য তারা প্রশ্ন মানসম্পন্ন ও মূল্যায়নে স্বচ্ছতা বজায় রাখার চেষ্টা করে। Pseudo-olympiad এ এরকম কোন দায়বদ্ধতা নেই।

তাই বলব, বড় কিছু করার স্বপ্ন থাকলে এমন কোন প্রতিযোগিতাতেই যেও, যেটা কেবল দেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না, তোমাকে তোমার পরিশ্রমের যোগ্য পুরস্কার দিতে পারে।  

-রুবাইয়াত জালাল, I J SO 2017 ও APhO 2019 বাংলাদেশ দলের সদস্য

Close Menu